দেশের পুঁজিবাজারে এমনিতেই বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ যৎসামান্য। বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারস্বল্পতার কারণে বিদেশীরা ঘুরেফিরে হাতেগোনা কিছু শেয়ারেই বিনিয়োগ করেন। গত সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশীদের শেয়ারধারণে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে চারটিতেই বিদেশীদের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ কমেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারধারণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর শেষে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের বিদেশীদের শেয়ার ধারণ বেড়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রাইম ব্যাংকে বিদেশীদের শেয়ারধারণ অপরিবর্তিত ছিল।
বিদেশীদের শেয়ারধারণের দিক দিয়ে বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে। এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১৬ শতাংশে, আগের মাসে যা ছিল ৩৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বিদেশীদের শেয়ারধারণের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কোম্পানিটিতে গত সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশীদের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, আগের মাসে যা ছিল ৩৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
বিদেশীদের শেয়ারধারণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। গত সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটিতে বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ কিছুটা কমে ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাসে যা ছিল ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস বিদেশীদের শেয়ারধারণের দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটিতে বিদেশী শেয়ারধারণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৬৩ শতাংশে, আগের মাসেও কোম্পানিটির বিদেশী শেয়ারধারণের পরিমাণ অপরিবর্তিত ছিল।
বিদেশীদের শেয়ারধারণে রেনাটা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির বিদেশী শেয়ারধারণের পরিমাণ কমে ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাসে যা ছিল ১৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।
ইসলামী ব্যাংক বিদেশীদের শেয়ারধারণের দিক দিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটিতে বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাসেও যা ছিল একই।
বিদেশীদের শেয়ারধারণের শীর্ষ তালিকায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের অবস্থান সপ্তম। গত সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানির বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশে, আগের মাসে যা ছিল ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।
প্রাইম ব্যাংক বিদেশীদের শেয়ারধারণের শীর্ষ তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার বিদেশীদের কাছে ছিল, আগের মাসেও যা ছিল একই।
বিদেশীদের শেয়ারধারণের দিক দিয়ে নবম স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটিতে বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাসে যা ছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিদেশীদের শেয়ারধারণের শীর্ষ তালিকার দশম অবস্থানে রয়েছে। গত সেপ্টেবরে কোম্পানিটির বিদেশীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশে, আগের মাসেও যা ছিল একই।
টানা তিন মাস ইতিবাচক প্রবণতায় থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। আলোচ্য মাসে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। পাশাপাশি এক মাসের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।